বৃহস্পতিবার, ০২ Jul ২০২৬, ০৪:২৬ অপরাহ্ন

শিরোনামঃ
জুলাই স্মরণে জামায়াতের ৩৬ দিনের কর্মসূচি অনলাইন বেটিংয়ে ৭ বছর জেল, ৫ কোটি টাকা জরিমানা হাসিনার বক্তব্য প্রচার করা নিষেধ, গণমাধ্যমকে আদালতের নির্দেশনা মানতে হবে : তথ্য উপদেষ্টা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে বাজেট পরবর্তী নৈশভোজ বাতিল ট্রাম্প যুদ্ধবিরতি বললেও থাইল্যান্ড কম্বোডিয়ার সংঘাত চলছেই ওমান উপসাগরে ট্যাঙ্কার জব্দ, ইরানে বাংলাদেশিসহ ১৮ ক্রুকে আটক মুক্তিযুদ্ধ ও ৭১ বাদ দিয়ে কোনো চেতনা বাংলাদেশের জন্য মঙ্গল নয়: শামীম হায়দার ষড়যন্ত্র চলছে, নির্বাচন অতো সহজ হবে না : তারেক রহমান হাদির ওপর হামলায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেল শনাক্ত, মালিক গ্রেফতার দেশের সব নির্বাচন অফিসে নিরাপত্তা জোরদারের নির্দেশ

রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশ

অর্থনীতি ডেস্ক, নগরকন্ঠ.কম : প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে ব্যাংকগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। একই সঙ্গে বিদেশে তাদের সহযোগী শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউসগুলোকে প্রবাসীদের কাছ থেকে রেমিটেন্স সংগ্রহ করে সেগুলো দেশে পাঠানোর জোরালো উদ্যোগ নিতে বলেছে।

এ বিষয়ে ব্যাংকগুলোকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতেও বলা হয়েছে। সম্প্রতি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠানো আলাদা চিঠিতে এসব নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এ ব্যাপারে জরুরি ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে জানাতে বলা হয়েছে।

করোনার প্রভাবে মার্চ ও এপ্রিলে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে গিয়েছিল। রোজার ঈদকে সামনে রেখে মে মাসে আবার বেড়ে যায়। জুন-জুলাইয়েও বেড়েছে।

ফেব্রুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত করোনার প্রভাব প্রকট ছিল। এর মধ্যেও গড়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে আগের অর্থবছরের চেয়ে প্রায় ১১ শতাংশ।

২০১৮-১৯ অর্থবছরে আগের অর্থবছরের তুলনায় বেড়েছিল সাড়ে ৯ শতাংশের বেশি। করোনার কোপের মধ্যেও বিদায়ী অর্থবছরের রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে দেড় শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের জুলাইয়ে রেমিটেন্স প্রবাহ বেড়েছে রেকর্ড পরিমাণে। গত অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৬৩ শতাংশ বেশি। রেকর্ড পরিমাণে রেমিটেন্স বাড়ার কারণ হিসেবে সংশ্লিষ্টরা বলেছেন, অনেক প্রবাসী করোনার ধাক্কায় দেশে আসার সময় আগের সঞ্চয় সব সঙ্গে নিয়ে এসেছেন। এছাড়া হুন্ডি কমায় ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স বেড়েছে। এ কারণে রেমিটেন্স প্রবাহে রেকর্ড গড়েছে। এ ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে অনেকে মন্তব্য করেছেন। যে কারণে আগাম সতর্কতা হিসেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে।

ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিটেন্স পাঠালে ২ শতাংশ প্রণোদনা দেয়া হচ্ছে। অগ্রণী ব্যাংকের মাধ্যমে রেমিটেন্স পাঠালে তারা আরও এক শতাংশ বেশি হারে প্রণোদনা দেবে। অর্থাৎ ৩ শতাংশ দেবে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে। তারা মনে করে এর ফলে রেমিটেন্স সংগ্রহ বাড়াতে ব্যাংকগুলোর মধ্যে প্রতিযোগিতা তৈরি হবে। এতে বাড়বে রেমিটেন্স। আমদানি বাণিজ্যের গ্রাহকদের ধরে রাখতে প্রায় সব ব্যাংকই এখন রেমিটেন্স সংগ্রহে জোর দিয়েছে। কেননা বাজারে ডলারের সংকট হলে চড়া দামে কিনতে হয়।

তখন আমদানিকারককে বাড়তি অর্থ গুনতে হয়। এ অবস্থায় আমদানিকারকরা কম দামে যে ব্যাংকে ডলার পান সে ব্যাংকে চলে যান। এতে ব্যাংকগুলো গ্রাহক ধরে রাখতে রেমিটেন্স বাড়াতে মনোযোগী হয়েছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে প্রবাসীদের জন্য সহজ শর্তে ও আকর্ষণীয় মুনাফার সঞ্চয়ী হিসাব খুলতে। যাতে প্রবাসীরা সঞ্চয় করতে উৎসাহিত হয়। প্রতিটি ব্যাংকেরই বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ রয়েছে। এর আওতায় বাইরের দেশের ব্যাংকগুলো বিভিন্ন শাখা বাংলাদেশের ব্যাংকের পক্ষে কাজ করে।

এসব শাখাকে বলা হয় ক্রসপন্ডিং ব্র্যাঞ্চ বা প্রতিসঙ্গী বা সহযোগী শাখা। এসব শাখার মাধ্যমে প্রবাসীরা দেশে রেমিটেন্স পাঠাতে পারেন। এমন প্রতিসঙ্গী শাখাগুলোকে আরও বেশি সক্রিয় করতে নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বিদেশে বিভিন্ন ব্যাংকের শাখা ও এক্সচেঞ্জ হাউস রয়েছে। এগুলোর মাধ্যমে রেমিটেন্স সংগ্রহ বাড়াতে তৎপরতা জোরদার করতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে প্রবাসীর কাছে গিয়ে হিসাব খোলা ও রেমিটেন্স পাঠাতে উৎসাহিত করা এবং প্রণোদনার বিষয়টি জানাতে বলা হয়েছে।

বিশ্বব্যাংকের এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে. বাংলাদেশে প্রবাসীদের রেমিটেন্স পাঠানোর খরচ এখনও অনেক বেশি। সরকার থেকে এ খরচ কমানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এর মধ্যে প্রবাসীদের হিসাব খোলা ও পরিচালনায় কোন ফি না নেয়া, রেমিটেন্সের বিপরীতে চার্জ আরোপ কমানোর কথা বলা হয়েছে।

নগর কন্ঠ.কম/এআর

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved © 2017 Nagarkantha.com